আমেরিকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিশিগানে শিল্প ভবনে বিস্ফোরণে নিহত ১ মিশিগানে ৬ লাখ ডলারের বিটকয়েন কেলেঙ্কারি, অভিযুক্ত ইলিনয়ের ব্যক্তি অ্যান আরবারে ট্রেনের সঙ্গে এসইউভির সংঘর্ষ, তদন্ত শুরু মিশিগানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ম্যারাথন দৌড়বিদ গ্রেস নোলান ডেট্রয়েটে অপহৃত নারী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ টলেডোতে রাসায়নিক ছড়িয়ে  পড়ায় সতর্কতা জারি প্যালিসেডস পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর আগে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা সিঁদুরের রঙে বিজয়া, বিষাদের  সুরে মিশিগানে দেবীর বিদায় সাউথফিল্ডে গুলিতে একজন নিহত, ভুক্তভোগীর পরিচিত যুবক গ্রেপ্তার হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই বাংলাদেশি : তারেক রহমান হৃদরোগে মৃত্যুহারে মিশিগান ও  যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে ডেট্রয়েট নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাক হোসেনের কুষ্টিয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে টাইম বোমা, সঙ্গে পেট্রোল মিশিগানে সপ্তাহজুড়ে শরতের মৃদু আবহাওয়া, রাতে ঠান্ডা দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক জীবন বাঁচাতে রক্তদানের প্রতিযোগিতায় ইউএম ও ওহাইও স্টেট টেক্সাস টাউনশিপে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত, আহত ৩ মহাষ্টমীতে ভক্তিময় মিশিগান, দুর্গা  টেম্পল ও কালীবাড়িতে জনস্রোত
কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস আজ

৫২ বছরেও মেলেনি ১২৭ শহীদের স্বীকৃতি 

  • আপলোড সময় : ১৮-০৯-২০২৩ ০২:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৯-২০২৩ ০২:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন
৫২ বছরেও মেলেনি ১২৭ শহীদের স্বীকৃতি 
লাখাই, (হবিগঞ্জ) ১৮ সেপ্টেম্বর : আজ ভয়াল ১৮ সেপ্টেম্বর, লাখাই উপজেলার কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস। হবিগঞ্জ জেলায় সংঘটিত সবচেয়ে বড় গণহত্যা এটি। ১৯৭১ সালের এই দিনে রাজাকার ও আলবদরদের সহযোগিতায় ১২৭ জন নিরীহ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
লাখাই উপজেলার ১নং লাখাই ইউনিয়নের অন্তর্গত হিন্দু অধ্যুষিত একটি গ্রাম কৃষ্ণপুর। ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন একটি এলাকা, যেখানে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে এবং বর্ষা মৌসুমে নৌকায় চলাচল করতে হয়।
১৯৭১ সালে দেশব্যাপী নারকীয় গণহত্যা চললে পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন প্রাণভয়ে আশ্রয় নেয় প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই গ্রামটিতে। কিন্তু এই খবর স্থানীয় রাজাকারদের মাধ্যমে পৌঁছে যায় অষ্টগ্রামের পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে।
১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে অমাবস্যার অন্ধকারের ন্যায় কালো ছায়া নেমে আসে হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামটিতে। চারদিক থেকে পাকিস্তানী আর্মি ও রাজাকাররা ঘিরে ফেলে গ্রামটিকে। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম ক্যাম্প থেকে ২টি স্পিডবোটে করে ১০-১৫ জন পাক সৈন্য সেখানে আসে। তাদের সাথে যোগ দেয় স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার মোড়াকরি গ্রামের লিয়াকত আলী, খেলু মিয়া, বাদশা মিয়া, কিশোরগঞ্জের আলবদর আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলী (আমি আলবদর বলছি বইয়ের লেখক) লাল খাঁ, নাসিরনগর থানাধীন ফান্দাউকের আহাদ মিয়া, সন্তোষপুরের মোর্শেদ কামাল ওরফে শিশু মিয়াসহ প্রায় ৪০-৫০ জন রাজাকার, আলবদর। তাদের সহযোগিতায় নিরীহ ১৩১ জন হিন্দু ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে স্থানীয় কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে। ১২৭ জন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে মারা যান।
এদের মধ্যে হরিদাস রায়, প্রমোদ রায়, নবদ্বীপ রায় ও মন্টু রায় বুলেটের আঘাতে জর্জরিত হয়েও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবে তারা সারাজীবনের জন্য বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েন। গ্রামে আক্রমনের খবর পেয়ে যারা পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন তারাই প্রাণে বেঁচেছিলেন।
ওইদিন নারীদের উপর নেমে এসেছিল অকথ্য নির্যাতন। রাজাকার আলবদররা পুরো গ্রামে লুটপাটের তা-ব চালায়। পরে রাজাকারদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে গ্রাম আগুন ধরিয়ে দে জ্বালিয়ে দেয় পাকিস্তানি সৈন্যরা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ তান্ডবে পুরো গ্রাম কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়। রাজাকারদের ভয়ে একসঙ্গে ১২৭ জন লোকের সৎকারের ব্যবস্থা না করতে পেরে বলভদ্র নদীতে মৃতদেহগুলো ভাসিয়ে দেয়া হয়। কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫ জন শহিদের নাম সম্বলিত স্মৃতিফলক আজও সেই ভয়াল স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। বর্তমানে এখানে সরকারিভাবে বধ্যভূমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তিনজন শহীদের ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে।
২০১০ সালে সালের ৪ মার্চ বেঁচে যাওয়া হরিদাস রায় হবিগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (বহিস্কৃত) ও ইউপি চেয়ারম্যান রাজাকার লিয়াকত আলীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা দায়ের করেন। ২০১০ সালের ১২ আগস্ট মানবতা বিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা হিসেবে সিলেট বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গৃহীত হয়। মামলার রায়ে রাজাকার লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে আনিত ৭টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু লিয়াকত আলী দেশের বাইরে পালিয়ে যায়।
শহিদ পরিবারের সন্তানসহ সকল জনগনের দাবি, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হোক এবং ১২৭ শহীদকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হোক । তাহলেই লাখাই তথা কৃষ্ণপুরবাসী কলঙ্কমুক্ত হবে এবং শহিদদের আত্মা শান্তি পাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
ডেট্রয়েটে অ্যাপার্টমেন্টে আগুন, আহত ২

ডেট্রয়েটে অ্যাপার্টমেন্টে আগুন, আহত ২